পবিত্র ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘ ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই সময়ে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো টানা বন্ধ থাকবে। তবে ছুটির সময়কাল প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন ভিন্ন। কোথাও ছুটি শুরু হচ্ছে ১ জুন থেকে, কোথাও আবার ৩ জুন থেকে।
ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি ২০২৫
এবারের ছুটির ক্ষেত্রে আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কিছু প্রতিষ্ঠানে ছুটি মাত্র ১০ দিন, আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে ২৫ দিন পর্যন্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাপঞ্জি বিশ্লেষণ করে এই তথ্য জানা গেছে। এই প্রবন্ধে আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কতদিন বন্ধ থাকবে এবং এই ছুটির সময়সূচি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি।
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২৩ দিনের ছুটি
দেশের সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ মিলিয়ে টানা ২৩ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার কথা। তবে তার আগে ৩০ ও ৩১ মে শুক্র ও শনিবার হওয়ায় সাপ্তাহিক ছুটি পড়ছে। ফলে স্কুলের শেষ ক্লাস হবে ২৯ মে, বৃহস্পতিবার। এই ছুটির সময়ে ঈদের সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন অবকাশও যুক্ত হয়েছে। ছুটি চলবে ১৯ জুন পর্যন্ত। তবে, ২০ জুন শুক্রবার হওয়ায় এবং পরের দিন শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায়, স্কুলগুলো পুনরায় খুলবে ২২ জুন থেকে।
রাজধানীর প্রখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ইতোমধ্যে ছুটির নোটিশ প্রকাশ করেছে। নোটিশে বলা হয়েছে, ১ জুন থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত স্কুল শাখা বন্ধ থাকবে এবং ২২ জুন থেকে পূর্বের সময়সূচি অনুযায়ী ক্লাস শুরু হবে। এই দীর্ঘ ছুটি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য পারিবারিক সময় কাটানো এবং বিশ্রামের একটি সুযোগ তৈরি করবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২১ দিনের ছুটি
দেশের প্রায় ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দীর্ঘ ছুটির আওতায় আসছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি শুরু হবে ৩ জুন থেকে এবং চলবে ২৩ জুন পর্যন্ত, অর্থাৎ মোট ২১ দিন। ২৪ জুন থেকে পুনরায় ক্লাস শুরু হবে। এই সময়ে শিক্ষার্থীরা ঈদ উদযাপনের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন ছুটির সুযোগ পাবে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য গৃহকর্ম বা প্রকল্পভিত্তিক কাজ দিতে পারেন, যা তাদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
মাদরাসায় সবচেয়ে বেশি ২৫ দিনের ছুটি
মাদরাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এবার সবচেয়ে দীর্ঘ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, সরকারি আলিয়া মাদরাসা এবং বেসরকারি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদরাসাগুলোতে ছুটি শুরু হবে ১ জুন থেকে এবং চলবে ২৫ জুন পর্যন্ত, অর্থাৎ টানা ২৫ দিন। ২৬ জুন থেকে পুনরায় ক্লাস শুরু হবে। এই দীর্ঘ ছুটি মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তারা ঈদের আনন্দের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন অবকাশের পূর্ণ সুযোগ পাবেন।
কলেজে ১০ দিনের ছুটি
সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোতে শুধু ঈদুল আজহা উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, এতে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ অন্তর্ভুক্ত নয়। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, কলেজগুলোতে ছুটি শুরু হবে ৩ জুন থেকে এবং চলবে ১২ জুন পর্যন্ত, অর্থাৎ মোট ১০ দিন। ১৩ জুন থেকে পুনরায় ক্লাস শুরু হবে। এই তুলনামূলক সংক্ষিপ্ত ছুটি কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদ উদযাপনের সুযোগ দিলেও, গ্রীষ্মকালীন অবকাশ না থাকায় তারা তুলনামূলক কম সময় পাচ্ছেন।
কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৯ দিনের ছুটি
কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেমন প্রি-ভোকেশনাল, এসএসসি (ভোকেশনাল), দাখিল (ভোকেশনাল) পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ মিলিয়ে ১৯ দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ছুটি শুরু হবে ১ জুন থেকে এবং চলবে ১৯ জুন পর্যন্ত। ২০ ও ২১ জুন সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ক্লাস পুনরায় শুরু হবে ২২ জুন থেকে। এই ছুটি কারিগরি শিক্ষার্থীদের জন্য ঈদ উদযাপনের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়নের জন্য কিছু সময় ব্যয় করার সুযোগ করে দেবে।
এই দীর্ঘ ছুটি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বিশ্রামের সুযোগ হলেও, শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য গৃহকর্ম বা প্রকল্পভিত্তিক কাজ দেওয়া যেতে পারে। এছাড়া, শিক্ষকদের জন্যও এই সময়টি পাঠ্যক্রম পরিকল্পনা এবং পেশাগত উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২৩ দিন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২১ দিন, মাদরাসায় ২৫ দিন, কলেজে ১০ দিন এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৯ দিন ছুটি থাকবে। ছুটি শুরু হবে ১ জুন বা ৩ জুন থেকে, এবং প্রতিষ্ঠানভেদে ১৯ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চলবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য এই সময়টি ঈদ উদযাপনের পাশাপাশি বিশ্রাম ও পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার সুযোগ।
